বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আগস্টে কিছুটা বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ডস্টিল) দেয়া তথ্যানুযায়ী গত মাসে বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ভারত, তুরস্ক, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন প্রবৃদ্ধি আগস্টে বিশ্বব্যাপী মোট ইস্পাত উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
ভারত বেশ কয়েক মাস ধরেই ইস্পাত উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে দেশটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতে জোরালো বিনিয়োগ। সড়ক, রেল, আবাসন ও শিল্প প্রকল্পে সরকারের ব্যয় বাড়ার ফলে ইস্পাতের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি অটোমোবাইল ও প্রকৌশল খাতেও ব্যবহার বাড়ছে। আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা দেশী উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছে।
কাঁচামালের তুলনামূলক অনুকূল দাম ও নতুন উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। গত মাসে দেশটির মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪১ লাখ টন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৭২ লাখ টনে পৌঁছেছে।
বিশ্বে শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ চীন। ওয়ার্ল্ডস্টিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত মাসে দেশটির মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৭৪ লাখ টন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও পুরনো অকার্যকর ইউনিট বন্ধ রাখায় চীনে ইস্পাত উৎপাদন সীমিত হয়ে এসেছে। এছাড়া পরিবেশগত বিধিনিষেধ ও আবহাওয়ার কারণে দেশটির কিছু অঞ্চলে উৎপাদন কমেছে।
ওয়ার্ল্ডস্টিলের দেয়া তথ্যমতে, জাপান গত মাসে মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে ৬৬ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৫২ লাখ টনে নেমেছে। আগস্টে তুরস্কের মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৪ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
ওয়ার্ল্ডস্টিল তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের ৭০টি দেশের ইস্পাত উৎপাদনের তথ্য প্রকাশ করেছে। ধাতব পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনে দেশগুলোর অবদান ৯৮ শতাংশ।
অঞ্চল ভিত্তিতে আগস্টে আফ্রিকার দেশগুলোয় মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন দাঁড়ায় ১৮ লাখ টনে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চল মিলিয়ে উৎপাদন হয়েছে ১০ কোটি ৭৭ লাখ টন। এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় উৎপাদন ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৮৮ লাখ টনে নেমেছে। এ সময় ইউরোপের অন্যান্য দেশে ইস্পাত উৎপাদন ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩৭ লাখ টন হয়েছে।